আলহামদুলিল্লাহ
ভেরিফিকেশন কল দিলাম একজনকে। কথা হলো। ভীষণ দারুন সরলতা। মা ভীত - কি সব অনলাইন, এগুলো কি হয় নাকি? তবুও শঙ্কা নিয়েই ভেরিফাইড হলেন আমার আপুটা। কেমন যেন একটা অনুভূতি যে এটা আমারই আপন বোন। খুজলাম টানা বেশ কয়েক ঘন্টা বিশাল সব বায়োডাটার ভান্ডার। কেন যেন খুব চাচ্ছিলাম যেন আমি নিজ হাতে বিয়েটা করিয়ে দিতে পারি। বেশ কয়েক ঘন্টা পর একটা মেসেজ। ভেরিফাইড ক্লাবের মেম্বার এক ভাইয়া জানালেন তিনি আপুর প্রফাইলটি পছন্দ করেছেন, বাড়ির পাশেই। কল দিলাম বোঝার জন্য আমার বোনের জন্য বলেই সে উপযুক্ত কিনা। কি অদ্ভুত ব্যাপার, ভাইয়াটাও এক অদ্ভুত দারুন নিরহংকার ভালো মানুষ। খুব চিন্তায় পড়লাম আসলেই কি সব মিলে যাচ্ছে? ভাইয়া অসম্ভব ম্যাচিউরড একজন মানুষ, সরাসরি পরিবারের সাথে কথা বলবেন। পরিষ্কার করে কথা বলেন, অবিচল সহজ একটা মানুষ। খুব সহজে কথা বলা যায় মন খুলে। এখন আসলেই আমি দ্বিধায় পরে গেলাম। আমি নিজে তাহলে কোন পক্ষ - পাত্র না পাত্রী। আমার তো দুজনকেই ভীষণ ভালো লেগে গেলো। তারপর যোগাযোগ করিয়ে দিলাম দুই মাকে। এবার আমি আসলেই বিমোহিত। জহির রায়হানের একটা উপন্যাস আছে - হাজার বছর ধরে। সেই উপন্যাসে সহজ সরল মানুষদের তৈরী করা হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্যের কথা পড়েছিলাম। কিন্তু আমি শহুরে ছেলে হওয়ায় কখনো নিজে থেকে সেটা উপলব্ধি করিনি। এর পর মার্কিন প্রবাসী। দেখবো কিভাবে? আমার কাজ ছিল শুধু দুই মাকে পরিচয় করিয়ে কেটে পড়া। কিন্তু সেই সরল আলাপ শোনার লোভ সামলাতে পারলাম না। বিমোহিত হয়ে শুনলাম শুধু। মনে হলো এই যান্ত্রিক জগতে একান্নবর্তী পরিবারগুলো এখনো আমাদের আসল ঐতিহ্যের পরিচয় ধরে রেখেছে। মুগ্ধ হয়ে শুনলাম। আমরা একটা ছোট্ট লেনাদেনা করার জন্য যেখানে হাজার উঁকিল দিয়ে কাগজে দস্তখত করাই, সেখানে কতটা সহজে মানুষ মানুষকে আপন করে নেয়। পুরো জীবনটাকেই জোড়া লাগিয়ে নেয়। মনে হলো এই অল্প সময়ের দুনিয়ায় আমরা কতটা ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে আর কত জটিল চিন্তা করি, কেউ কাউকে বিশ্বাস করিনা। সবাই সবাইকে ঘায়েল করতে চাই। দেশে দেশে যুদ্ধ লাগিয়ে দেই। কি অদ্ভুত! অথচ দুই মা আমাকে অনেকটা চপেটাঘাত করেই বুঝিয়ে দিলেন - ওরে বোকা, এতো দৌড়ে কোনো লাভ নাই, সুখ নিজের মাঝেই, ছোট্ট ছোট্ট বিষয়গুলোতে।
আমি বেশ বাকরুদ্ধ। কি ভীষণ সরলতার মাঝেই আমাদের এই সভ্ভতার ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ করেছেন ওনারাই। আর আমরা হানাহানি করে আজ সব ধ্বংস করছি। এই অনুভূতি থেকে মনে হলো হয়ে যাই না বোঝামুক্ত। আর এমনটা মনে হওয়ার সাথে সাথেই কেমন যেন একটা অধিকার অধিকার ভাব চলে আসলো মনের ভিতর। মনে হলো যেন আমার আপন মানুষের বিয়ে হচ্ছে। দুই পরিবারের মুরুব্বীরাও এতটাই দারুন যে না বলেই কিভাবে যেন বুঝিয়ে দিলেন জীবন কত সহজ হতে পারে।
সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি আমার ভাই আর বোনটা যেন অনেক ভালো থাকে তার জন্য।
আপু আর ভাইয়া - বাংলাদেশে এসে অবশ্যই তোমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসবো।